||আতাউর রহমান কাবুল|| আমার ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রেক্ষিতে অবশেষে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ ১. মূল ঘটনা ছিলো .... ৭...
||আতাউর রহমান কাবুল||
আমার ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রেক্ষিতে অবশেষে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ
১.
মূল ঘটনা ছিলো ....
৭ মাসের গর্ভবতী রেহানা আক্তারের হঠাৎ পানি ভেঙ্গে যায়। আজিমপুর ম্যাটারনিটি হয়ে দুপুর একটায় বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালের আউটডোরে তাকে নিয়ে যান রোগীর স্বামী এমদাদ। সিট নেই বলে ভর্তি নেননি তারা। এরপর দুপুর দুইটায় সি-ব্লকের গাইনি ইমার্জেন্সিতে গেলে 'রেড ইউনিট' থেকে বলা হয় সিট নেই। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক কামরুল হাসান খান স্যারকে রিকুয়েস্ট করার পর স্যারের কার্যালয় থেকে বারবার সুপারিশ করলেও রোগীকে তারা দাড়িয়ে রাখে দীর্ঘক্ষণ এবং অবশেষে সন্ধ্যার দিকে ভর্তি নেয়।
অন্য ইউনিটে সিট খালি থাকার পরও সিটে না দিয়ে লেবার টেবিলে পাঠিয়ে দেয়া হয়। রাত একটার পর মৃত বাচ্চা প্রসব করে। এরপর জানানো হয়, রোগীর প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল আটকে গেছে। কিন্তু বড়ো ম্যাডামরা না আসা পর্যন্ত অপারেশন করে বের করা যাবে না। এরপর সকাল ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নেয়া হয়। কিন্তু পুরো প্লাসেন্টা বের করা যায়নি।
আমি গাইনি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. পারভিন ফাতেমা আপার সঙ্গে সাক্ষাত করি। উনি বললেন, 'রোগীকে সুস্থ করে তোলার যথাযথ চিকিৎসা দেয়াই এখন প্রধান কাজ।' দুইদিন পর রোগী বারবার বমি করলে এবং জ্বর ১০৫ ডিগ্রি হয়ে অবস্থার অবনতি হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগমকে আমি বিকেলের দিকে ফোন করি। তিনি ফোন ধরেননি। সহকারী ফোন ধরে বলেন, ম্যাডাম এখন চেম্বারে রোগী নিয়ে ব্যস্ত। কালকে কল করেন।'
২.
পুরো বিষয়টিতে কোন অবহেলা হয়েছে কি না-তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে গত ২৮ তারিখ রাতে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেই । কিন্তু বিষয়টি ভিসি স্যার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজর এড়ায়নি। পরদিন সকালেই ভিসি স্যার খোঁজ খবর নিতে শুরু করেন। স্ট্যাটাস দেবার ১২ ঘন্টার মধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
বিএসএমএমইউর প্রাে-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদকে কমিটির সভাপতি করে এবং পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: আবদুল্লাহ হারুনকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো: হাবিবুর রহমান দুলাল. সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমেদ।
জানা গেছে, ইতিমধ্যে এই টিম পুরোদমে কাজ শুরু করেছে। তবে খারাপ লাগছে রোগীটার জন্য। রোগীর স্বামী এমদাদ আজ (বৃহস্পতিবার) ফোন করে জানালো তার স্ত্রীর চিকিৎসা করতে গিয়ে এখন সে সর্বশান্ত। সে ঢাকায় একটি কাপড়ের শো রুমের কর্মচারি। প্রতিদিন দামী দামী ইনজেকশন দিতে হচ্ছে তার স্ত্রীকে। গতকাল গ্রামের বাড়ী তেঁতুলিয়ায় একটি গরু বিক্রি করা হয়েছে!
৩.
যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর সকাল থেকে রাত অবধী অফিস করেন। যিনি
স্বয়ং এতো কাজের ভিড়েও প্রতিদিন হাসপাতালে রাউন্ডে বের হন, সেখানে কোন অবহেলা থাকতে পারে না। এই রাউন্ডের কারনে পাল্টে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি। এখন সবাই আগের চেয়ে কাজে অনেক সোচ্চার।
আমরা জানি, সর্বোচ্চ সেবা দেবার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বেশ আন্তরিক। এরপরও সমস্যা যে নেই তা বলা যাবে না। কিন্তু নিজ নিজ দায়িত্বে তৎপর না হলে পাহারা দিয়ে কাজ আদায় করা আসলেই কঠিন।
কারো কোন প্রতি অভিযোগ নয়, তদন্তের পর কারো চাকরি চলে যাক সেটাও আমি চাই না। আমি চাই, অন্তত চিকিৎসা নিয়ে কেউ যেন গাফলতি না করে।
কেননা, বাংলাদেশে এখনো চিকিৎসায় আস্থার একটা জায়গার নাম বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও গবেষণার এই প্রতিষ্ঠানের সন্মান টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আপনার আমার সকলের।
আমার ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রেক্ষিতে অবশেষে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ
১.
মূল ঘটনা ছিলো ....
৭ মাসের গর্ভবতী রেহানা আক্তারের হঠাৎ পানি ভেঙ্গে যায়। আজিমপুর ম্যাটারনিটি হয়ে দুপুর একটায় বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালের আউটডোরে তাকে নিয়ে যান রোগীর স্বামী এমদাদ। সিট নেই বলে ভর্তি নেননি তারা। এরপর দুপুর দুইটায় সি-ব্লকের গাইনি ইমার্জেন্সিতে গেলে 'রেড ইউনিট' থেকে বলা হয় সিট নেই। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক কামরুল হাসান খান স্যারকে রিকুয়েস্ট করার পর স্যারের কার্যালয় থেকে বারবার সুপারিশ করলেও রোগীকে তারা দাড়িয়ে রাখে দীর্ঘক্ষণ এবং অবশেষে সন্ধ্যার দিকে ভর্তি নেয়।
অন্য ইউনিটে সিট খালি থাকার পরও সিটে না দিয়ে লেবার টেবিলে পাঠিয়ে দেয়া হয়। রাত একটার পর মৃত বাচ্চা প্রসব করে। এরপর জানানো হয়, রোগীর প্লাসেন্টা বা গর্ভফুল আটকে গেছে। কিন্তু বড়ো ম্যাডামরা না আসা পর্যন্ত অপারেশন করে বের করা যাবে না। এরপর সকাল ১০টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নেয়া হয়। কিন্তু পুরো প্লাসেন্টা বের করা যায়নি।
আমি গাইনি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. পারভিন ফাতেমা আপার সঙ্গে সাক্ষাত করি। উনি বললেন, 'রোগীকে সুস্থ করে তোলার যথাযথ চিকিৎসা দেয়াই এখন প্রধান কাজ।' দুইদিন পর রোগী বারবার বমি করলে এবং জ্বর ১০৫ ডিগ্রি হয়ে অবস্থার অবনতি হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. ফিরোজা বেগমকে আমি বিকেলের দিকে ফোন করি। তিনি ফোন ধরেননি। সহকারী ফোন ধরে বলেন, ম্যাডাম এখন চেম্বারে রোগী নিয়ে ব্যস্ত। কালকে কল করেন।'
২.
পুরো বিষয়টিতে কোন অবহেলা হয়েছে কি না-তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে গত ২৮ তারিখ রাতে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেই । কিন্তু বিষয়টি ভিসি স্যার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজর এড়ায়নি। পরদিন সকালেই ভিসি স্যার খোঁজ খবর নিতে শুরু করেন। স্ট্যাটাস দেবার ১২ ঘন্টার মধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
বিএসএমএমইউর প্রাে-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদকে কমিটির সভাপতি করে এবং পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: আবদুল্লাহ হারুনকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, প্রক্টর অধ্যাপক ডা. মো: হাবিবুর রহমান দুলাল. সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমেদ।
জানা গেছে, ইতিমধ্যে এই টিম পুরোদমে কাজ শুরু করেছে। তবে খারাপ লাগছে রোগীটার জন্য। রোগীর স্বামী এমদাদ আজ (বৃহস্পতিবার) ফোন করে জানালো তার স্ত্রীর চিকিৎসা করতে গিয়ে এখন সে সর্বশান্ত। সে ঢাকায় একটি কাপড়ের শো রুমের কর্মচারি। প্রতিদিন দামী দামী ইনজেকশন দিতে হচ্ছে তার স্ত্রীকে। গতকাল গ্রামের বাড়ী তেঁতুলিয়ায় একটি গরু বিক্রি করা হয়েছে!
৩.
যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর সকাল থেকে রাত অবধী অফিস করেন। যিনি
স্বয়ং এতো কাজের ভিড়েও প্রতিদিন হাসপাতালে রাউন্ডে বের হন, সেখানে কোন অবহেলা থাকতে পারে না। এই রাউন্ডের কারনে পাল্টে গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি। এখন সবাই আগের চেয়ে কাজে অনেক সোচ্চার।
আমরা জানি, সর্বোচ্চ সেবা দেবার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বেশ আন্তরিক। এরপরও সমস্যা যে নেই তা বলা যাবে না। কিন্তু নিজ নিজ দায়িত্বে তৎপর না হলে পাহারা দিয়ে কাজ আদায় করা আসলেই কঠিন।
কারো কোন প্রতি অভিযোগ নয়, তদন্তের পর কারো চাকরি চলে যাক সেটাও আমি চাই না। আমি চাই, অন্তত চিকিৎসা নিয়ে কেউ যেন গাফলতি না করে।
কেননা, বাংলাদেশে এখনো চিকিৎসায় আস্থার একটা জায়গার নাম বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও গবেষণার এই প্রতিষ্ঠানের সন্মান টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব আপনার আমার সকলের।
test
ReplyDeletetest
ReplyDelete